ভারতের নয়ডা শিল্পাঞ্চলে বাড়ছে উত্তেজনা, শ্রমিকদের বিক্ষোভ নিচ্ছে সহিংস রূপ। সহিংসতা ও গণগ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মজুরি বৈষম্য নিয়ে অসন্তোষ এখনো কাটেনি।
সাম্প্রতিক শ্রমিক বিক্ষোভের পেছনে কেবল মজুরি বৃদ্ধির দাবি নয়, বরং গভীর আর্থসামাজিক সংকট কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গত কয়েক দিনে নয়ডার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বহু শ্রমিককে আটক করলে পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তাদের মাসিক বেতন ১০ থেকে ১৫ হাজার রুপির মধ্যে স্থির রয়েছে। ফলে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
এই অসন্তোষকে আরও তীব্র করেছে প্রতিবেশী হরিয়ানা রাজ্যের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত, যেখানে ন্যূনতম মজুরি প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নয়ডার শ্রমিকদের মতে, এই বৈষম্য তাদের বঞ্চনার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে উত্তরপ্রদেশ সরকার সাময়িকভাবে মজুরি বৃদ্ধির আশ্বাস দিলেও শ্রমিকেরা তা স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন না। তাদের দাবি, এটি কেবল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দেওয়া একটি অস্থায়ী প্রতিশ্রুতি।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এতে কোনো শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্ব নেই। ফলে হাজার হাজার শ্রমিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নামলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাবে আন্দোলন দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়।
অন্যদিকে, নয়ডার অধিকাংশ কারখানা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পভিত্তিক হওয়ায় কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে মালিকপক্ষও চাপে রয়েছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কাজের সময় বাড়ানো হচ্ছে, যা অসন্তোষকে আরও উসকে দিচ্ছে।
এ বিক্ষোভ এখন শিল্পাঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গৃহকর্মীসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরাও বেতন বৃদ্ধি ও উন্নত জীবনমানের দাবিতে সরব হতে শুরু করেছেন।