পুরোনো স্টিলের গ্লাস অনেক সময় রান্নাঘরের কোণে অবহেলায় পড়ে থাকে। কিন্তু একটু সৃজনশীলতা ব্যবহার করলে এগুলোই হতে পারে আধুনিক অন্দরসজ্জার দারুণ উপকরণ। অল্প খরচে ঘরকে নতুন রূপ দিতে ডিআইওয়াই ডেকর এখন বেশ জনপ্রিয়, আর স্টিলের গ্লাস এই কাজে সহজেই ব্যবহার করা যায়।
স্টিলের গ্লাস দিয়ে ছোট ইনডোর প্ল্যান্টার তৈরি করা যায় খুব সহজে। এতে সাকুলেন্ট, মানি প্ল্যান্ট বা ছোট গাছ লাগালে ঘরের কোণে প্রাকৃতিক সতেজতা আসে। গ্লাসের ধাতব ফিনিশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল লুক তৈরি করে, যা আধুনিক ডেকরের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। চাইলে গ্লাসে রং করা বা পাটের দড়ি পেঁচিয়ে আরও আকর্ষণীয় করা যায়।
উৎসবের রাত বা বিশেষ মুহূর্তে স্টিলের গ্লাসকে মোমবাতিদানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। গ্লাসের ভেতরে মোমবাতি রেখে বাইরে ছোট ছোট ছিদ্র বা নকশা করলে আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরে একটি উষ্ণ ও মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। ডাইনিং বা বেডরুমের কোণে এটি খুব সুন্দর লুক দেয়।
স্টিলের গ্লাস দিয়ে ঝুলন্ত সজ্জা তৈরি করা যায়। রঙিন সুতো বা চেইন লাগিয়ে এগুলো বারান্দা বা জানালার পাশে ঝুলিয়ে দিন। ভেতরে ছোট ফেয়ারি লাইট বা কৃত্রিম ফুল রাখলে এক স্বপ্নময় পরিবেশ তৈরি হয়। বাতাসে দোল খেলে এটি ঘরকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
বাথরুমের টুথব্রাশ, চিরুনি বা ছোট জিনিসপত্র রাখার জন্য স্টিলের গ্লাস খুব উপযোগী। এটি টেকসই এবং সহজে পরিষ্কার করা যায়। এতে বাথরুম আরও পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক দেখায়। কম জায়গায় সুন্দরভাবে সবকিছু গুছিয়ে রাখা যায়।
পুরোনো গ্লাসে রঙিন ফুল সাজিয়ে ডাইনিং টেবিলকে আরও আকর্ষণীয় করা যায়। অ্যাক্রাইলিক রঙ বা সামান্য পালিশ করলে এটি দামি শোপিসের মতো দেখায়। ফুলের রঙের সঙ্গে ধাতব গ্লাসের বৈপরীত্য ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।
সবচেয়ে সৃজনশীল ব্যবহার হলো দেয়ালে স্টিলের গ্লাস দিয়ে ইনস্টলেশন তৈরি করা। কাঠের বোর্ডে সারিবদ্ধভাবে গ্লাস লাগিয়ে তাতে ছোট গাছ বা লাইট বসালে এটি একটি ইউনিক ওয়াল ডেকরে পরিণত হয়। এটি ঘরের রুচিশীলতা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়।
পুরোনো স্টিলের গ্লাসকে এভাবে ব্যবহার করলে শুধু ঘরই সুন্দর হয় না, বরং অল্প খরচে একটি আধুনিক ও শৈল্পিক লাইফস্টাইলও তৈরি হয়।