• মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন

পঞ্চগড়ে সদ্য নিয়োগ পাওয়া আলোচিত সেই এসপিকে প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মো. মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। সোমবার (১১ মে) পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৯ মে) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

আদেশে বলা হয়, পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে ১০ মে-এর মধ্যে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন। এর আগে গত ৫ মে ১২ জেলার পুলিশ সুপার পদে রদবদল করা হয়। এতে মো. মিজানুর রহমানকে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরবর্তীতে গত ৭ মে তিনি পঞ্চগড়ে যোগদান করেন। পরে ৮ মে (শুক্রবার) তিনি জরুরি কাজে ঢাকায় যান। তবে এখনও তিনি পঞ্চগড়ে ফিরে আসেননি।

এদিকে, মো. মিজানুর রহমান পঞ্চগড়ের এসপি হিসেবে পদায়ন হওয়ার পর গত শনিবার (৯ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের একটি পোস্ট করেন। এতে তিনি লিখেন, আওয়ামী শাসনামলে পতিত সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে দিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে দিনাজপুর জেলায় এসপি হিসেবে বদলির সুপারিশ করেও কোন ফল না পাওয়া পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের প্রতি সদয় হয়েছে বিএনপি সরকার। তিনি আরও লেখেন, বিএনপি সরকার মিজানুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করেছে, তাকে এসপি পঞ্চগড় হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ কর্মকর্তার বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক পদস্থ কর্মকর্তার মতামত অত্যন্ত নেতিবাচক। নারী পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ও নিজ অধীনস্তদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের মতো গুরুতর নৈতিকস্খলনের অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তাকে ঠিক কোন বিবেচনায় একটি জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্ব দেয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তারা।

পরবর্তীতে রোববার (১০ মে) তিনি ফেসবুকে আবারও পোস্ট করেন, গতকাল লিখেছিলাম পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমানের বিষয়ে, যিনি সম্প্রতি এসপি হিসেবে পঞ্চগড় জেলায় যোগদান করেছেন।

৩০ অক্টোবর ২০২২ বাংলাদেশ পুলিশের এই কর্মকর্তার ‘অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণ’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং একবছর তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার শাস্তি দেয়া হয়।

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত কোন কর্মকর্তার ‘অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণ’ এর অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদের চাকরি তো যেতই সঙ্গে জেল-জরিমানাও হতো। তবে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হয়েও আমরা এভাবেই দুর্নীতিবাজদের এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করে দুর্নীতির বাম্পার ফলন নিশ্চিত করে যাচ্ছি।

মিজানুরের সহকর্মীরা তাকে জুয়াড়ি মিজান বা বিকাশ মিজান নামে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের জিজ্ঞাসা— সরকার ঠিক কোন কারণে মিজানুর রহমানের মতো দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাকে পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দিলো?

বিভিন্ন মাধ্যমে যাচাই করে জানা গেছে বিশেষ একজন আমলা- যিনি ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাব দখল করেছিলেন, তিনি সরকারের শীর্ষ মহলের চোখে পট্টি পরিয়ে এমন অসংখ্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে চলেছেন। এই ব্যক্তির বিষয়ে সরকার যদি এখনই সতর্ক না হয়, তাহলে পদে পদে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতেই থাকবে।

আলোচিত সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এসব পোস্টের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীরাসহ সচেতন মহলের নাগরিকেরা পঞ্চগড়ের সদ্য নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সুপারকে দ্রুতই বদলির দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। এর পরেই জেলার এই সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে এ বিষয়ে সোমবার ১১ মে বিকেলে জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারো পোস্ট শুরু করেন নেটিজেনরা।

এ বিষয়ে জানতে সদ্য নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category