• সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন

ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় যেসব দোয়া পড়বেন

সবুজ বার্তা ডেস্ক / ৪ Time View
Update : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

বৃষ্টি মহান রবের অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে একটি। শুধু মানুষ নয়, পশু-পাখি এমনকি গাছ-গাছালিও এই নেয়ামতে সিক্ত হয়। প্রচণ্ড রোদে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখন এক পশলা বৃষ্টিই জনমনে স্বস্তি এনে দেয়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের এবং তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর। যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে করেছেন বিছানা, আসমানকে ছাদ এবং আসমান থেকে নাজিল করেছেন বৃষ্টি। অতঃপর তার মাধ্যমে উৎপন্ন করেছেন ফল-ফলাদি, যা তোমাদের জন্য রিজিকস্বরূপ। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর জন্য সমকক্ষ নির্ধারণ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২১-২২)

অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি বর্ষণ করি। তারপর জমিনকে যথাযথভাবে বিদীর্ণ করি। অতঃপর তাতে আমি উৎপন্ন করি শস্য। আঙ্গুর ও শাক-সবজি, যায়তুন ও খেজুর বন, ঘন বৃক্ষ, শোভিত বাগ-বাগিচা আর ফল ও তৃণগুল্ম।’ (সুরা আবাসা, আয়াত: ২৫-৩১)

আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কি পানি সম্পর্কে চিন্তা করে দেখেছ যা তোমরা পান কর? তা কি তোমরাই মেঘ থেকে বর্ষণ কর, নাকি তার বষর্ণকারী আমিই? ইচ্ছা করলে আমি তা লবণাক্ত করে দিতে পারি, তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না?’ (সুরা ওয়াকিয়াহ, আয়াত: ৬৮-৭০)

তবে রহমতের বৃষ্টিই কখনো কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে রূপ নেয়। মূলত, পৃথিবীতে বান্দাকে পরীক্ষার জন্য মহান আল্লাহ তা’আলা যেসব বিপদ-মুসিবত দেন, এটি তারই একটি। তবে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এসব বিপদ-আপদ থেকে হেফাজতে থাকার কৌশলের পাশাপাশি দোয়ার কথা এসেছে।

খোদ রাসুল (সা.)ও বৃষ্টির সময় এর কল্যাণ চেয়ে দোয়া করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টি দেখলে বলতেন, হে আল্লাহ! মুষলধারায় কল্যাণকর বৃষ্টি দাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৭৫)

তবে আকাশে মেঘ দেখলে নবীজি বিচলিত হয়ে পড়তেন। সেই সঙ্গে আল্লাহর আযাব থেকে আশ্রয় চেয়ে দোয়া করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) যখন আকাশে মেঘ দেখতেন, তখন একবার সামনে অগ্রসর হতেন, আবার পেছনে সরে যেতেন। আবার কখনো ঘরে প্রবেশ করতেন, আবার বের হয়ে যেতেন আর তাঁর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে যেত। পরে যখন আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করত তখন তাঁর এ অবস্থা কেটে যেত। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৯৭৯)

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে বলতেন- ‘হে আল্লাহ! তোমার গযব দিয়ে আমাদের মেরে ফেলো না, তোমার শাস্তি দিয়ে আমাদের নিশ্চিহ্ন করো না, বরং তার আগেই আমাদের মাফ করে দাও।’ (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৫০)

এছাড়াও অতিবৃষ্টির ক্ষতি কিংবা প্রবল বেগে বাতাস বইলেও নবীজি (সা.) এর অনিষ্ট থেকে মহান রবের কাছে পানাহ চেয়ে দোয়া করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রবল বেগে বাতাস বইতে দেখতেন তখন বলতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهَا وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ

বাংলা: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরাহা ওয়া খাইরি মা-ফিহা ওয়া খাইরি মা আরসিলাত বিহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা-ফিহি ওয়া শাররি মা আরসিলাত বিহি।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি এর কল্যাণ এতে যা আছে সেই কল্যাণ এবং এটিকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে সেই কল্যাণ। আর পানাহ চাই তোমার কাছে এর অনিষ্ট থেকে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৪৯)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category