জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে মশাল মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এতে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রী হল প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘ধর্ষকের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘ভুয়া ভুয়া, জাকসু ভুয়া’, ‘প্রক্টরের পদত্যাগ, করতে হবে, করতে হবে’ এ ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। পরে সেখানে শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশ শেষে তারা পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করেন। এ সময় তারা অভিযুক্তের ‘দৃশ্যমান বিচার’ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন এবং অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পুরো প্রক্টোরিয়াল বডির পদত্যাগ, শিক্ষার্থী, বহিরাগত ও শ্রমিকদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসের সব প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা, এবং নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও কুইক রেসপন্স টিমে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে প্রক্টর অফিসের সামনে অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রক্টরের দায়িত্ব নয়; এটি রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, প্রক্টর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি কীভাবে বলতে পারেন যে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দায়িত্ব তার নয়? এছাড়া তার দপ্তরে জমা পড়া হয়রানির অভিযোগগুলোরও কোনো সমাধান হয়নি।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিয়া নাওয়ার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টর ব্যর্থ হয়েছেন। তার মেয়াদকালে এখন পর্যন্ত দুটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। তারপরও তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না। ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর আমরা আর তাকে এই পদে দেখতে চাই না।