আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ বিষয়ে রোববার (১০ মে) জারি করা এক সার্কুলারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের একজন সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ওই কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর আগামী ১৭ মে’র মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোন হাটে কোন ব্যাংক দায়িত্ব পালন করবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আর ঢাকার বাইরের পশুর হাটগুলোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস ঠিক করবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা দিতে হবে। এছাড়া যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের কাজ করবে সোনালী ব্যাংক।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন হাটে দায়িত্ব পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—গাবতলী হাটে ইসলামী ব্যাংক ও সীমান্ত ব্যাংক, মিরপুর সেকশন-৬ এলাকায় এবি ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক, কালশী বালুর মাঠে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক এবং ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় আইএফআইসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংক।
এছাড়া মেরুল বাড্ডা, পূর্ব হাজীপাড়া, বছিলা, উত্তরা দিয়াবাড়ি, খিলক্ষেত, বনরূপা, মহাখালী, বড় বেরাইদ ও কচুক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থানে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ পরিচালনা করবে।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি পশুর হাটে দায়িত্ব পালন করবে ১৯টি ব্যাংক। এর মধ্যে সারুলিয়া বাজারে দি প্রিমিয়ার ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক, পোস্তগোলা এলাকায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, খিলগাঁও এলাকায় ঢাকা ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক এবং আমুলিয়া এলাকায় জনতা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক বুথ স্থাপন করবে।
এছাড়া লালবাগ, শ্যামপুর, কাজলা, গোলাপবাগ, বনশ্রী ও দয়াগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় মধুমতি ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক জাল নোট শনাক্তে দায়িত্ব পালন করবে।
সুষ্ঠুভাবে লেনদেন পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলোকে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে কোনো জাল নোট শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।