• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

টেকসই বেড়িবাঁধ না হওয়ায় ঝুঁকিতে কুতুবদিয়া দ্বীপ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

একদিকে উত্তাল সমুদ্রের গর্জন, অন্যদিকে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক, এই দুইয়ের মাঝেই কাটছে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার দেড় লক্ষাধিক মানুষের জীবন। গত ৩৫ বছরেও একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ভাঙনের কবলে পড়ে দ্বীপটি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। স্থানীয় দ্বীপবাসীর দাবি—এক সময়ের ১০০ বর্গকিলোমিটারের কুতুবদিয়া এখন মাত্র ৩০ বর্গকিলোমিটারে ঠেকেছে। জরুরি ভিত্তিতে ‘সুপার ডাইক’ নির্মাণ করা না হলে অদূর ভবিষ্যতে দ্বীপটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জোয়ারের চাপে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তাবলেরচর, কাহারপাড়া ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকার অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে শত শত একর ফসলি জমি ও লবণের মাঠ লোনাপানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হাসেম জানান, বাঁধ ভেঙে নোনাপানি ঢুকে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। আগে নিজের জমিতে চাষ করে সংসার চলত, এখন পরের দ্বারে মজুরি খাটতে হচ্ছে। বসতবাড়ি হারিয়ে বহু মানুষ ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

দ্বীপের কৈয়ারবিল এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘৯১-এর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর এই মৌলভীপাড়া এলাকার ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়। আজ তিন দশক পার হলেও সেই বাঁধ আর সংস্কার হয়নি। বর্ষা এলে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। এলাকায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রও নেই। আমরা কি তাহলে এভাবেই সাগরে ভেসে যাব?’

দ্বীপের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আজাদ বলেন, ‘৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের পর দক্ষিণ ধুরং এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতি বছর জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি, লবণের মাঠ ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দ্বীপের মানুষের জানমাল রক্ষায় দ্রুত সিসি ব্লক বা ‘সুপার ডাইক’ নির্মাণে আমরা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

একই সংকটের কথা তুলে ধরেন কুতুবদিয়া সমিতির সহসভাপতি ও কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক হুমায়ুন সিকদার। তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে কুতুবদিয়া ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দ্বীপটিতে এখনো টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হয়নি। ফলে জোয়ার-ভাটা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে কুতুবদিয়া চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্বীপের চারপাশে দ্রুত সুপার ডাইক নির্মাণসহ দীর্ঘদিনের পারাপার দুর্ভোগ লাঘবে সেতু বা ফেরি চালুরও জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া অংশে ৬৩ কিলোমিটার সুপার ডাইক নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বিশাল বাজেটের কারণে তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। তবে জরুরি মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় কার্যালয়। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কয়েকটি পয়েন্ট বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এসব ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার বা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category