দেশের সকল নারীর রান্নার কাজ সহজ ও সাশ্রয়ী করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এই কার্ডের মাধ্যমে মায়েরা ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার ক্রয় করতে পারবেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার নেতা তারেক রহমান কিংবা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটি বারের জন্যও এই গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব দাবি করেননি। যদিও এই দলের ৭০০-র অধিক নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন, ৫ হাজার জীবন দিয়েছেন এবং ৫০ লক্ষ নেতা-কর্মী বছরের পর বছর কোর্টের বারান্দায় কাটিয়েছেন। আমার নেতা এই অর্জনের কৃতিত্ব সমগ্র দেশবাসীর কাছে ভাগ করে দিয়েছেন।
যশোর-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে একটি কষ্টের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, গতকাল আমার রাজপথের সাথী কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন ইরান উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসার পথে মারা গেছেন। যশোরে একটি পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ২০ বছর আগে নেওয়া হলেও সরকারের পালাবদলে ১৯ বছর ধরে সেই মেশিনগুলো বক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ঢাকা বা খুলনা নেওয়ার পথে প্রাণ হারাতে হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যশোরের উলসি যদুনাথপুর খাল খননের মাধ্যমে এক বিপ্লব শুরু করেছিলেন, যেখানে আমার বাবা তরিকুল ইসলাম তার পাশে ছিলেন। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা যে, ৫০ বছর পর শহীদ জিয়ার সন্তানের পাশে দাঁড়িয়ে আমি সেই খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরেছি।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, যার প্রতিশ্রুতি ২০ বছর আগে দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
নারীদের জন্য শুভ বার্তা দিয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যশোর থেকে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামীতে আমাদের মা-বোনদের রান্নার কষ্ট লাঘবে প্রতিটি নারীর জন্য একটি করে এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তারা সহজ ও সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার পাবেন।
বিরোধী দলের সদস্যদের শারীরিক ভাষা ও আক্রমণাত্মক আচরণের সমালোচনা করে অমিত বলেন, মাঝে মাঝে আমি আতঙ্কিত হই আমার বিরোধী দলের বন্ধুদের শরীরী ভাষা দেখে। সামান্য শব্দ বা বাক্যের জন্য এত উত্তেজনা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য (জামায়াত নেতা) আমার সাথে জেলখানায় ছিলেন, আমরা একসাথে রোজা রেখেছি। উনি যেভাবে উত্তেজিত হয়ে যান, আমি উনার স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি যখন শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অবদান স্বীকার করেন, তখন ভালো লাগে।
তিনি সকল বিভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।