• মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

চমক রেখে বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল ঘোষণা ব্রাজিলের

স্পোর্টস ডেস্ক / ৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে দল গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ফিফার কাছে জমা দিয়েছে। অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ প্রতিভার মিশেলে গড়া এই তালিকায় কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনার ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই আনচেলত্তি বলে আসছেন, নাম বা খ্যাতির চেয়ে ফিটনেস ও পারফরম্যান্সই হবে দলে জায়গা পাওয়ার প্রধান শর্ত। সেই নীতির কারণে শুরুর দিকে নেইমার জাতীয় দলে জায়গা পাননি, কারণ তখন তিনি দীর্ঘমেয়াদি লিগামেন্ট চোট থেকে সেরে উঠছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে গিয়ে আবারও ছন্দে ফিরেছেন নেইমার। সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবটির হয়ে ১২ ম্যাচে পাঁচ গোল এবং তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন। শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই নয়, তার নেতৃত্বে দলীয় পারফরম্যান্সেও উন্নতি এসেছে বলে জানা গেছে।

তবে, এত উন্নতি সত্ত্বেও নেইমারের বিশ্বকাপ খেলা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। ১৮ মে চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে তার অবস্থান চূড়ান্ত হবে। নির্বাচিত হলে এটি হবে তার চতুর্থ বিশ্বকাপ, যা ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার জন্য বড় একটি মাইলফলক। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে গুরুতর চোট পান নেইমার। সেই চোটের কারণে দীর্ঘ সময় তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন।

এদিকে, ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা হিসেবে ধরা হচ্ছে তরুণ উইঙ্গার এস্তেভাওয়ের অনুপস্থিতিকে। ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে ঘিরে বিশ্বকাপের আগে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। ডান প্রান্তে তার গতি ও আক্রমণাত্মক খেলা তাকে দ্রুত জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছিল।

গত এপ্রিলের শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি হয়তো সময়মতো সেরে উঠে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিতে পারবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ও চেলসির মেডিকেল টিম নিশ্চিত করতে পারেনি যে তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন। ফলে এস্তেভাওকে বাদ দিয়ে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় তার নাম নেই। চোটের কারণে তার বিশ্বকাপ যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও জানা গেছে।

গত এক বছরে জাতীয় দলে এস্তেভাও ছিলেন অন্যতম উজ্জ্বল নাম। আনচেলত্তির অধীনে ৭ ম্যাচে ৫ গোল এবং ৫টি অ্যাসিস্ট করে তিনি নজর কাড়েন। ডান উইংয়ে তার ধারালো আক্রমণ ও গতি ব্রাজিলের জন্য বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। চোটের কারণে এদের মিলিতাও ও রদ্রিগোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার আগেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। এবার এস্তেভাওয়ের নাম যুক্ত হওয়ায় ব্রাজিল শিবিরে তরুণ শক্তি নিয়ে নতুন করে চিন্তার জায়গা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিজ্ঞতা ও তরুণদের মিশেলে গড়া স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন নেইমার জুনিয়র এবং থিয়াগো সিলভার মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই দুই তারকার অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা এবং গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির মতো তারকারা রয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় জায়গা পেয়েছেন জোয়াও পেদ্রো, এনড্রিক, রায়ান, পেড্রো এবং কাইও জর্জের মতো তরুণ ফুটবলাররাও।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ৫৫ সদস্যের এই প্রাথমিক তালিকা থেকেই ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড নির্বাচন করা হবে। আগামী ২ জুনের মধ্যে চূড়ান্ত দল জমা দিতে হবে, যেখানে অন্তত তিনজন গোলরক্ষক রাখা বাধ্যতামূলক।

আগামী ১৮ মে রিও ডি জেনেরিওতে ব্রাজিলের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেই ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব, বিশেষ করে নেইমারের ভবিষ্যৎ এবং তরুণদের ভাগ্য নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।

গোলরক্ষক : আলিসন বেকার (লিভারপুল), এদেরসন (ফেনেরবাহচে), বেন্তো (আল-নাসর), হুগো সুজা (করিন্থিয়ান্স), জন (ফরেস্ট), কার্লোস মিগুয়েল (পালমেইরাস)।

ডিফেন্ডার : মার্কিনিওস (পিএসজি), থিয়াগো সিলভা (পোর্তো), গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস (আর্সেনাল), ব্রেমার (জুভেন্টাস), লিও পেরেইরা (ফ্লামেঙ্গো), ইবানেজ (আল-আহলি), আলেক্সান্দ্রো (লিল), ফাব্রিসিও ব্রুনো (ক্রুজেইরো), বেরালদো (পিএসজি), ভিতর রেইস (জিরোনা), মুরিলো (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), ওয়েসলি (রোমা), দানিলো (ফ্লামেঙ্গো), পাউলো হেনরিক (ভাস্কো), ভিতিনিও (বোতাফোগো), অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্লামেঙ্গো), ডগলাস সান্তোস (জেনিত), লুসিয়ানো জুবা (বাহিয়া), কাইও হেনরিক (মোনাকো), কাইকি (ক্রুজেইরো), কার্লোস আগুস্তো (ইন্টার)।

মিডফিল্ডার : কাসেমিরো (ম্যান ইউনাইটেড), ব্রুনো গিমারেশ (নিউক্যাসেল), ফাবিনিও (আল-ইত্তিহাদ), আন্দ্রে সান্তোস (চেলসি), দানিলো (বোতাফোগো), লুকাস পাকেতা (ফ্লামেঙ্গো), গ্যাব্রিয়েল সারা (গালাতাসারাই), জোয়াও গমেস (উলভস), আন্দ্রেয়াস পেরেইরা (পালমেইরাস), জোয়েলিনটন (নিউক্যাসেল), গারসন (ক্রুজেইরো), মাতেউস পেরেইরা (ক্রুজেইরো)।

ফরোয়ার্ড : ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), মাতেউস কুনিয়া (ম্যান ইউনাইটেড), লুইজ হেনরিক (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), জোয়াও পেদ্রো (চেলসি), নেইমার (সান্তোস), এন্দ্রিক (লিও), রায়ান (বোর্নমাউথ), অ্যান্টনি (রিয়াল বেতিস), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), পেদ্রো (ফ্লামেঙ্গো), রিচার্লিসন (টটেনহ্যাম), ইগর জেসুস (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), কাইও জর্জ (ক্রুজেইরো)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category