• সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

আবাসন ব্যবসার নামে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ Time View
Update : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানের উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম হায়দার কবির মিথুন (৫৪)। তিনি ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি ছিলেন। রোববার সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিআইডি জানায়, উত্তরা–পূর্ব থানায় করা একটি প্রতারণা মামলায় হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে সিআইডি জানায়, ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’ উত্তরখান থানার কাছে ১০ কাঠা জমির ওপর ৯ তলা ভবন নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালায়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ টাকা। এ প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির উত্তরা সেক্টর–৪–এর কার্যালয়ে গিয়ে অর্থ বিনিয়োগ করেন।

এজাহারে বলা হয়, এক গ্রাহক ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে ১ লাখ টাকা এবং পরে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। একই সময়ে তাঁর এক বন্ধু আরও ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। অর্থ গ্রহণের বিপরীতে কোম্পানি মানি রিসিট ও চেক দিলেও পরে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া থ্রি–স্টার হোটেল ও বিভিন্ন মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সিআইডি আরও জানায়, গ্রাহকেরা টাকা ফেরত চাইলে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাঁরা জানতে পারেন, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। নতুন পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হওয়া আর্থিক লেনদেনের দায় তারা নেবে না।

হায়দার কবির মিথুন কোম্পানির ডিএমডি হিসেবে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের কাজে সরাসরি জড়িত ছিলেন। মামলা হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে বিদেশে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে সিআইডি। সিআইডির তথ্যমতে, তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি প্রতারণা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা পূর্ব ও উত্তরা পশ্চিম থানার একাধিক মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category