মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ থানা সড়কের সংস্কার কাজ ফেলে রেখে প্রায় ছয় মাস ধরে উধাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার অর্ধলাখেরও বেশি মানুষ। প্রতিদিন থানায় যাতায়াতকারীসহ জাঙ্গালিয়া, ধুপুড়িয়া, মহম্মদপুর সদর, রায়পাশা ও চরপাচুড়িয়া গ্রামের হাজারো বাসিন্দা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের শেষ দিকে বিশ্বাসপাড়া থেকে হরেকৃষ্ণপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ দশমিক ১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে এই কাজের দরপত্র পায় ‘জেরিন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুল হাকিম। পরে জেরিন এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে কাজটি কিনে দায়িত্ব নেন শিপন নামের আরেক ঠিকাদার।
অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরু করে সড়কটি খুঁড়ে ফেলে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে ঠিকাদার উধাও হয়ে যান। অথচ চলতি বছরের শুরুর দিকেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের খোয়া উঠে ধুলায় পরিণত হয়েছে। ধুলোময় এই সড়কে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি—ব্রেক করলেই চাকা পিছলে যাচ্ছে।
রায়পাশা গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, “আগে সড়কটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যেত। এখন বাজারে যাওয়া বা দৈনন্দিন কাজ করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকচালক আজগর আলী বলেন, রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখার পর থেকে চারদিকে শুধু ধুলা আর ধুলা। মুখে মাস্ক দিয়েও চলা যায় না। প্রায় দুর্ঘটনার খবর শুনি। ঠিকাদার নাকি পালিয়ে গেছে। আমরা এখন চরম ভোগান্তিতে।
তবে ঠিকাদার শিপনের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। সব প্রস্তুতি রয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে এলেই কাজ শুরু করা হবে।
মহম্মদপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলজার হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যদি শিগগির কাজ সম্পন্ন না করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।