প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতিতে থাকছে বিশেষ হাফটাইম শো। যেখানে মঞ্চে উঠবেন আন্তর্জাতিক সংগীত তারকারা। তবে শুধু তারকাদের পারফরম্যান্স নয়, অন্য কারণেও এবারের ফাইনালের হাফটাইম শো হবে ঐতিহাসিক। সেই মঞ্চে শাকিরা, ম্যাডোনা ও বিটিএসের মতো বৈশ্বিক তারকারা পারফর্ম করলেও তারা নিচ্ছেন না কোনো পারফরম্যান্স ফি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই হবে বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেই ম্যাচের বিরতিতে পারফর্ম করবেন কলম্বিয়ান তারকা শাকিরা, মার্কিন পপ আইকন ম্যাডোনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। কোল্ডপ্লের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন এই লাইনআপ কিউরেট করেছেন, আর অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করছে গ্লোবাল সিটিজেন।
দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, গ্লোবাল সিটিজেনের সূত্র অনুযায়ী তিন শিল্পীই পারফরম্যান্স ফি নিচ্ছেন না। তারা সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সংগঠন গ্লোবাল সিটিজেনের উদ্যোগে নিজেদের সময় দিচ্ছেন। ফিফা ও শিল্পীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি বলে জানিয়েছে অ্যাথলেটিক।
এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শো অনেকটা সুপার বোল হাফটাইম শোর মতো। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বার্ষিক টিভি ইভেন্টগুলোর একটি সুপার বোলেও সাধারণত হাফটাইম শিল্পীদের পারফরম্যান্স ফি দেওয়া হয় না। বদলে তারা পান বিশাল বৈশ্বিক প্রচার, নতুন শ্রোতার কাছে পৌঁছানোর সুযোগ এবং ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মঞ্চে পারফর্ম করার মর্যাদা।
বিশ্বকাপ ফাইনালের ক্ষেত্রে সেই প্রচারের পরিধি আরও বড় হতে পারে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনালের বৈশ্বিক দর্শক পৌঁছেছিল ১৪২ কোটিতে। সেই তুলনায় ২০২৬ ফাইনালের হাফটাইম শো শুধু মাঠের দর্শক নয়, বিশ্বজুড়ে টিভি ও ডিজিটাল দর্শকদের কাছেও পৌঁছাবে।
তবে এই আয়োজন ফুটবলীয় দিক থেকেও আলোচনায়। সাধারণত ফুটবল ম্যাচের বিরতি ১৫ মিনিটের। কিন্তু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠ ব্যবহার করে হাফটাইম শো আয়োজনের পরিকল্পনা থাকায় বিরতি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে। ফিফা এখনো বিরতির নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য নিশ্চিত করেনি। তবে শাকিরা, ম্যাডোনা ও বিটিএসের সম্মিলিত পারফরম্যান্স প্রায় ১১ মিনিট স্থায়ী হতে পারে বলে জানা গেছে।
শাকিরার সঙ্গে বিশ্বকাপের সম্পর্ক পুরোনো। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ওয়াকা ওয়াকা’ দিয়ে বিশ্বকাপ সংগীতের ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্যও বার্না বয়ের সঙ্গে তার গান ‘দাই দাই’ ঘোষণা করা হয়েছে।
ম্যাডোনা পপ সংগীতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নামগুলোর একজন। অন্যদিকে বিটিএসের উপস্থিতি বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শোকে এশিয়া ও কে-পপের বিশাল বৈশ্বিক দর্শকের কাছেও বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলবে।
ফিফা এর আগে গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে হাফটাইম শো করেছিল। মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই পিএসজি ও চেলসির ম্যাচের বিরতিতে পারফর্ম করেছিলেন টেমস, জে বালভিন ও ডোজা ক্যাট। তবে তখন মঞ্চ ছিল গ্যালারির ওপরে, যাতে মাঠের ঘাস ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠ ব্যবহার করে আরও বড় আকারের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।