• রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মতপ্রকাশের ওপর অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২ Time View
Update : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে মতপ্রকাশ, সংগঠন এবং সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ছিল বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

গত ২৩ এপ্রিল এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি দাবি করে, মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চা করতে গিয়ে যত্রতত্র গ্রেপ্তার এবং হয়রানির শিকার হয়েছেন।

সংস্থাটি বলেছে, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, লেখক, ব্লগার এবং কবিসহ যারা নিজেদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চা করেছেন, তাদের লক্ষ্য করে বছরজুড়েই হয়রানি, সহিংসতা ও গ্রেপ্তারের মতো ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন, যা সাবেক সরকার সমালোচকদের দমনে ব্যবহার করত এবং যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি ছিল, তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও অ্যাক্টিভিজম দমাতে ব্যবহার করে গেছে।

তারা আরও বলেছে, পরবর্তী সময়ে এই আইনটি বাতিল করে ‘সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ’ দিয়ে স্থলাভিষিক্ত করা হয়, যা মে মাসে কার্যকর হয় এবং পরবর্তী সংসদ কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদনের আগ পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকার কথা। তবে এই অধ্যাদেশেও “অশ্লীল ভিডিও” এবং “যৌন হয়রানি”র মতো বিষয়গুলোর অস্পষ্ট ও ব্যাপক সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে; এমনকি “সাইবার সন্ত্রাসবাদ” শব্দটিরও অস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এই ধারাগুলো অপব্যবহারের সুযোগ থেকে যায়।

অপরদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটি বলেছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি এবং আরও চারজন তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়েছেন।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে এসেছে হাদি হত্যাকাণ্ড ও এর জেরে সংবাদমাধ্যমে হামলার বিষয়টিও। তারা বলেছে, গত ১৮ ডিসেম্বর জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শরীফ ওসমান হাদি নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ‘দ্য ডেইলি স্টার’ ও ‘প্রথম আলো’—এই দুটি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়; ‘নিউ এজ’ পত্রিকার সম্পাদককে হেনস্তা করা হয় এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘ছায়ানট’-এ হামলা চালানো হয়। সূত্র: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category