অবশেষে অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি জিতলেন বাবর আজম। রোববার রাতে পেশোয়ার জালমি পিএসএল ফাইনালে ৫ উইকেটে হারাল হায়দরাবাদ কিংসম্যানকে। একদিকে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শিরোপা, তাও আবার ঘরের মাঠ গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। বাবরের জন্য রাতটি ছিল অবিস্মরণীয়।
বাবরের জন্য পিএসএলের এই আসর ছিল অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ। গত মৌসুমেও পেশোয়ারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু মৌসুমটা ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। তাদের ১০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার প্লে অফে উঠতে ব্যর্থ হয়। ২০২২ সালের শুরু থেকে পিএসএলে নেতৃত্ব দিয়েও ট্রফি জেতা হয়নি। এছাড়া আইসিসি ও এসিসির একাধিক ইভেন্টেও পাকিস্তানকে শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দিতে পারেননি বাবর। তিনি পেশোয়ারকে নেতৃত্ব দিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জেতালেন, যেটা ছিল অধিনায়ক হিসেবে প্রথম পিএসএল ফাইনাল।
ফাইনালের পর পিএসএলের ‘ইনফিনিটি’ ট্রফি পাশে রেখে বাবর বললেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনার ভাগ্যে যা নির্ধারিত, সেটা আপনি পাবেনই। এটা পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে কিংবা দ্রুতও চলে আসতে পারে। তবে প্রত্যেকের সর্বশক্তিমানের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।’
মাঠে বাবরের কৌশল সমালোচিত হলেও ব্যাটিং দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বাবর। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ফর্মে ভাটা পড়েছিল, পিএসএলেও ছন্দ হারান এবং গত মৌসুম ছিল খুব বাজে। ১০ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ২৮৮ রান, যেটা ছিল ২০১৬ সালের আসরের পর সর্বনিম্ন। ওইবার মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেন তিনি।
আর এবার! পিএসএলে বাবরের মতো আর কোনো ব্যাটার আধিপত্য দেখাতে পারেননি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে একমাত্র ব্যাটার হিসেবে চার হাজারি ক্লাবে ঢুকেছেন তিনি। গত পিএসএল অনেকের কপালে ভাঁজ ফেলেছিল যে হয়তো বাবর এই ফরম্যাটে তার সেরা সময় পার করে এসেছেন। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৬ ইনিংসে মাত্র ৯১ রান সেই শঙ্কা আরও জোরালো করেছিল।
কিন্তু সদ্য শেষ হওয়া পিএসএল সেই উদ্বেগ দূর করে দিয়েছে। দুর্দান্তভাবে ফর্মে ফিরেছেন তিনি। এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছুঁয়েছেন। ১২ ইনিংসে ১৪৫.৯০ স্ট্রাইক রেটে ৫৮৮ রান তার। ২০২২ সালে বাবরের চেয়ে একটি ইনিংস বেশি খেলে এই রান করেছিলেন ফখর জামান।
বাবর এবার দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। প্রথমটি ছিল ৫২ বলে। কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের বিরুদ্ধে তিনি টুর্নামেন্টে নিজের দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন। একই সঙ্গে উসমান খানের (৪) সঙ্গে পিএসএলে সর্বাধিক সেঞ্চুরির যৌথ রেকর্ড গড়েন।
ব্যাটিংয়ে নিজের মৌসুম নিয়ে বলতে গিয়ে বাবর বললেন, ‘আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পারিনি, তবে একজন ব্যাটারের তার খেলার ধরন নিয়ে সমস্যায় পড়া স্বাভাবিক। আপনাকে একটু পেছনে ফিরতে হবে এবং মূল্যায়ন করতে হবে যে আপনি কোথায় ভুল করছেন এবং সংশোধন করতে হবে। এমন সময়গুলোতে আপনার সমর্থন প্রয়োজন পড়ে এবং আমার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আমাকে উজ্জীবিত রেখেছিল। আমার কাছের কোচদের সঙ্গে আমার উন্নতির জায়গাগুলো নিয়ে আলাপ করেছি এবং সেগুলোর ওপর কাজ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জীবন অনেকটা রোলার কোস্টারের মতেমা। কিছু বিষয় কখনো একই রকম থাকে না। আপনার ভালো ও খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হয়। এভাবেই জীবন চলে।’
টি-টোয়েন্টিতে দাপট দেখালেন বাবর। যে আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন, তাতে আবারও সব ফরম্যাটের ক্রিকেটের জন্য নিজেকে উপযুক্ত মনে করতে শুরু করেছেন। তিন ফরম্যাটেই খেলা চালিয়ে যাবেন কি না প্রশ্নে তিনি বললেন, ‘আমি জানি আপনারা কী প্রশ্ন করতে চাইছেন। আমার মনোযোগ তিন ফরম্যাটের সবগুলোতেই। আমি মনে করি একজন ব্যাটারের সব ক্রিকেট খেলা উচিত, তার শুধু সাদা বলের ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। লাল বলের ক্রিকেট আপনাকে লম্বা সময়ের ব্যাটিং শৈলী শেখাবে এবং আপনার মধ্যে ধৈর্য জাগিয়ে তুলবে। এটা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে কীভাবে আপনি বেশি রান করতে পারেন। আর লাল বলের ক্রিকেট থেকে এসব শিক্ষা সাদা বলের ক্রিকেটে আপনাকে সাহায্য করবে।’