পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটির মুখ দেখেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক মাস বাকি থাকতে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানালেন, মাঠের ফুটবলের চেয়ে মানসিক চাপ সামলাতে না পারাটাই এখন সেলেসাওদের বড় বাধা। তার মতে, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা নিজেদের ওপর যে পরিমাণ চাপ তৈরি করেন, তাতে তাদের সহজাত সৃজনশীলতা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।
রিও ডি জেনেরিওতে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সদর দপ্তরে এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি খেলোয়াড়দের ওপর প্রচণ্ড চাপ কাজ করছে। কখনো কখনো তারা নিজেদের ওপর এতটাই চাপিয়ে দেন যে, খেলার আনন্দ আর শক্তিটা হারিয়ে যায়। আনন্দ আর সৃজনশীলতা ছাড়া ব্রাজিলিয়ান ফুটবল অসম্পূর্ণ।’
সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচগুলোর উদাহরণ টেনে আনচেলত্তি জানান, মাঠে ছোটখাটো ভুলকেও খেলোয়াড়রা বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রীতি ম্যাচগুলোতে দেখেছি, সতীর্থের একটি ছোট ভুলে সবাই এমন প্রতিক্রিয়া দেখায় যেন বড় কোনো বিপর্যয় ঘটে গেছে। আমাদের এমন একটি রুটিন তৈরি করতে হবে যেখানে চাপ ভাগ করে নেওয়া যায়। যখন সবাই মিলে চাপ সামলাবে, তখন তা আর বোঝা মনে হবে হবে না।’
আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি ব্রাজিলের চিরাচরিত সাম্বা ফুটবলের ঘরানা বদলাতে চান না। বরং তিনি চান সেই সৃজনশীলতাকে আধুনিক ফুটবলের তীব্রতার সাথে মানিয়ে নিতে। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তাদের আনন্দ আর শক্তি। এটি হারানো যাবে না, তবে দলটিকে আরও সুসংগঠিত হতে হবে।’
এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপে খেলবে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে আনচেলত্তির শিষ্যরা।