টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিরোধের জেরে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হাই আল হাদীকে (৫০) পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন থানায় মামলা করেছেন।
ধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তার নিজ বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত আব্দুল হাই হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং নগদাশিমলা ইউনিয়নের দক্ষিণ বিলডগা গ্রামের মোজাফফর আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন গোপালপুর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
থানা পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মাহবুব আলী গংয়ের সঙ্গে তাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বুধবার সন্ধ্যার আগে নিহতের পরিবারের এক সদস্য নির্মাণাধীন ঘরে পানি দিলে তা পাশের বাড়িতে ছিটে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে নিহতের বাড়িতে এসে গালিগালাজ শুরু করে।
নিহতের পরিবারের দাবি, মাগরিবের নামাজের পর মাহবুব খান উত্তেজিত হয়ে আব্দুল হাই আল হাদীর বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কিছুক্ষণ পর বাড়ির পেছনের পথ দিয়ে বের হয়ে পালিয়ে যান। পরে বাড়ির পশ্চিম পাশের উঠানে আব্দুল হাই আল হাদীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী শাহনাজ পারভীনের দাবি, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন- আব্দুল হাই আল হাদী স্ট্রোকে মারা গেছেন।
গোপালপুর থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।