• রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

‘বর্তমান প্রজন্মকে কোরআনের শিক্ষা ও আদর্শের সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ Time View
Update : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

বর্তমান প্রজন্মকে কোরআনের শিক্ষা, ইতিহাস ও আদর্শ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কোরআনের আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দুর্নীতি, বৈষম্য, সন্ত্রাস ও নৈতিক অবক্ষয়মুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র গঠন সম্ভব।

ঐতিহাসিক ১১ মে ‘কুরআন দিবস’ উপলক্ষ্যে রোববার (১০ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পবিত্র কোরআনের কিছু আয়াত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উসকানি দেয়, এমন মিথ্যা দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৮৫ সালে ভারতের কলকাতার পদ্মপল চোপড়া ও শীতল সিং নামের দুজন ব্যক্তি পবিত্র কুরআন বাজেয়াপ্ত করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।

এই ঘৃণ্য অপচেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বাংলাদেশে এর প্রতিবাদে ১০ মে বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঈদগাহ ময়দানে স্থানীয় জনতা প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। তৎকালীন প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও তা অমান্য করে জনতা সমাবেশে নামে। পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শীষ মোহাম্মদ, রশিদুল হক, অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সেলিম, সাহাবুদ্দীন, কৃষক আলতাফুর রহমান সবুর, রিকশাচালক মোক্তার হোসেন, রেলশ্রমিক নজরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

এই আন্দোলনের মুখে ভারত সরকার হাইকোর্টে রিট মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় এবং কলকাতা হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করে দেয়।

তিনি বলেন, কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণ এবং ইসলামের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ১১ মে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

দিনটি বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পবিত্র আল-কোরআনের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় এ দেশের ঈমানদার ছাত্র-জনতা যেভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল, তা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কোরআনের অবমাননার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহু তাওহিদী জনতা শাহাদাতবরণ করেছেন, আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তাদের এই আত্মত্যাগ ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আল-কুরআন মানবজাতির মুক্তির সনদ; শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার একমাত্র নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশনা। পৃথিবীর কোনো অপশক্তি কোরআনের আলো নিভিয়ে দিতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। যুগে যুগে ইসলামবিদ্বেষীরা কোরআনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, কিন্তু মহান আল্লাহ নিজ দায়িত্বে তাঁর কিতাব সংরক্ষণ করেছেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশবাসী এবং সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ধারণ ও অনুশীলনের আহ্বান জানান এবং ১১ মে’র শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category