• শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
Headline
বহুবিবাহ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন আহমাদুল্লাহ যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল শিশুর, হেফাজতে আরও এক কিশোর নাসার বিজ্ঞানী রেজাউল হক আর নেই টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে আটক দুইজন, উদ্ধার ৯৬৩ সিম শ্রীপুরে গাভীর কৃত্রিম প্রজনন, খামারিদের দুধ উৎপাদন ও গাভী পালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ  শ্রীপুরে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এ্যাড. নেওয়াজ হালিমা আরলীকে গণসংবর্ধনা প্রদান সবুজ-পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই: ডিএসসিসি প্রশাসক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ইলেকট্রিক বাস শুল্কমুক্ত করা হচ্ছে চট্টগ্রামে এনসিপির ২২ নেতাকর্মীর পদত্যাগ লক্ষ্মীপুরে অর্থনৈতিক জোন গঠন করবো: পানিসম্পদ মন্ত্রী

বহুবিবাহ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন আহমাদুল্লাহ

ইসলাম ডেস্ক / ৪ Time View
Update : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

জনপ্রিয় আলেম ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ সম্প্রতি এক বক্তব্যে ইসলামে বহুবিবাহের বৈধতার শর্ত, কিছু মানুষের বাড়াবাড়ি, দ্বীনের বিধানকে মানুষের কাছে হাস্যকর বানানো ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন। গত ৯ মে ২০২৬ তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে ‘একাধিক বিয়ে করে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে পারবেন?’ শিরোনামে ওই আলোচনার ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। শায়খ আহমাদুল্লাহর ওই আলোচনার সংক্ষীপ্তসার জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন,

ইসলাম পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ে অনুমোদন দিয়েছে। তবে শর্ত হলো, একাধিক বিয়ের পর প্রত্যেক স্ত্রীর প্রতি সমতা বজায় রাখার সার্বিক সামর্থ্য থাকতে হবে।

প্রথমত, একাধিক স্ত্রীর ভরণপোষণ করার শক্তি ও সামর্থ্য থাকতে হবে—সার্বিকভাবে। দ্বিতীয়ত, শুধু সামর্থ্য থাকলেই হবে না, ইনসাফ করার সামর্থ্যও থাকতে হবে। আল্লাহ বলেছেন, যার এই আশঙ্কা হয় যে একাধিক স্ত্রী হয়ে গেলে একজনের প্রতি ঝুঁকে যাবে, আরেকজনের খোঁজ নেবে না, আরেকজনের প্রতি বৈষম্য হয়ে যাবে, জুলুম হয়ে যাবে, ভরণপোষণ দিতে গিয়ে একজনকে বেশি দেবে আরেকজনকে দেবে না, তাহলে তার জন্য একটি বিয়েই যথেষ্ট। একটির বেশি করা তার জন্য জায়েজ নয়। এটাই হলো মৌলিক কথা।

দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়কে হাস্যকর ও বিতর্কিত প্রমাণ করার জন্য আমাদের অনেকের অপরিপক্ব আচার-আচরণ ও ভূমিকার যেমন দায় আছে, তেমনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়কে সমাজে হেয় করার একটা অপচেষ্টাও চলছে। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে কিছু মানুষ বিভিন্নভাবে এই কাজ করে যাচ্ছে—এটা আমরা জানি।

আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগের বাংলাদেশের বাস্তবতা দেখলে দেখা যায়, গ্রামে-গঞ্জে-শহরে একাধিক বিয়ের ঘটনা অহরহ হয়েছে। অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, দুনিয়াদার মানুষ, সাধারণ শিক্ষিত মানুষজনের মধ্যে এটা ব্যাপকভাবে ছিল। সেটা নিয়ে সমাজে কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি। কিন্তু এখন একাধিক বিয়ে করে একজন স্ত্রীকে নিয়ে পড়ে থাকা, আরেকজনের খোঁজখবর না নেওয়া—এরকম বৈষম্যমূলক অনাচার যেমন হচ্ছে, তেমনি এটাকে আরও রং চড়িয়ে তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার করার একটা অপচেষ্টাও আছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অনেক সাধারণ মুসলমান এই প্রপাগান্ডায় পা দিয়ে ফেলেন।

তবে আবারও বলছি, একাধিক বিয়েকে ছেলেখেলা, তামাশা বা মনের খায়েশ পূরণের অস্ত্রে পরিণত করে দ্বীনকে, দ্বীনের বিধানকে, শরীয়তের বিধানকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করা যাবে না।

দেখুন, এমন অনেক পরিবার আছে—আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি—যেখানে স্ত্রী কোনো কারণে স্বামীর সঙ্গ দিতে পারছেন না। শারীরিক অসুস্থতা হতে পারে, কত সমস্যাই তো মানুষের হয়। এতদিন যে মানুষটা পরম যত্নে আগলে রেখেছেন, সময় দিয়েছেন, সেই মানুষটা এখন অসুস্থতার কারণে অপারগ হয়ে গেছেন, কিন্তু পুরুষ লোকটিকে তখনও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সার্বিক সক্ষমতা দিয়ে রেখেছেন, তার সেই প্রয়োজন আছে। এখন হয় সে এই স্ত্রীকে রেখেই আরেকটি বিয়ে করবে, নয়তো এই স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তারপর বিয়ে করবে। কারণ তার নিজের চরিত্র হেফাজত করতে হবে। চরিত্র হেফাজত না করে যেখানে-সেখানে চরিত্র নষ্ট করে বেড়ালে সমাজ ধ্বংস হবে, সে নিজেও ধ্বংস হবে। এ রকম ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রথম স্ত্রী নিজেই চান যে স্বামীর এই সংকট দূর হোক।

এ রকম আরও বহু পরিস্থিতি আছে যেখানে একাধিক বিয়ের প্রয়োজন হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যা বিধান হিসেবে দিয়েছেন তা আমাদের জন্য কল্যাণকর, আমাদের বুঝে আসুক বা না আসুক। অতএব এ বিষয়ে যদি কারো মনে বিতৃষ্ণা আসে, তাহলে সেটা ইমান হরণকারী বিষয়েও পরিণত হতে পারে। এটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

কিন্তু সেই সাথে মনে রাখতে হবে, এটাকে ছেলেখেলায় পরিণত করা বা হাস্যকর জিনিসে পরিণত করার মতো ভূমিকায় যারা অবতীর্ণ হন, তারা আল্লাহর কাঠগড়ায় আসামী হতে পারেন। সাবধান থাকা উচিত। যখন দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়কে হেয় করার অপচেষ্টা চলছে, তখন আমি হেয়কারীদের হাতে কোনো অস্ত্র তুলে দিচ্ছি কিনা এটা ভাবতে হবে। আমার দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনো মন্তব্য বা কাজ দ্বীনকে হাসির পাত্রে পরিণত করছে কিনা এটা ভাবতে হবে। এমনিতেই আমল করতে পারি না, তার ওপর যদি আল্লাহর দ্বীনকে বা দ্বীনের কোনো বিধানকে হাস্যকর করার ক্ষেত্রে আমার কোনো ভূমিকা থাকে, তাহলে সেটা কত বড় দায়ের বিষয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ ও ভূমিকা রাখার তৌফিক দান করুন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category