যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করলেও গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। সংবাদমাদ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের ভয়াবহতার পরও ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার এখনও বড় ধরনের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের শুরুর দিকের মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, ইরান তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি বরাবর ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ৩০টিই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুদ্ধের আগের তুলনায় ইরানের কাছে এখনও প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মোবাইল লঞ্চার (ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপক) অক্ষত রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির মাটির নিচে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ এখন আংশিক বা সম্পূর্ণ সচল বলে উল্লেখ করা হয়েছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেছেন, ইরান সরকার জানে তাদের ‘বর্তমান বাস্তবতা টেকসই নয়’। যারা মনে করে ইরান তাদের সামরিক বাহিনীকে পুনর্গঠিত করেছে, তারা হয় বিভ্রান্ত অথবা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হয়ে কাজ করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, কিন্তু ইসলামাবাদে পরবর্তী আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। পরে ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন। এরপর থেকে স্থবির হয়ে পড়া কূটনীতি উদ্ধারে ইসলামাবাদ চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবে ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।