• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

অনেক আমলা বিভিন্ন কোম্পানির পারপাস সার্ভ করছে: হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ Time View
Update : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, সরকারের অনেক আমলা বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে পারপাস সার্ভ করছে। অনেক আমলাই সরকারি চাকরির এই ট্যাগটাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন কোম্পানির পারপাস সার্ভ করে এবং পলিসিতে তারা তাদের ব্যক্তিগত এজেন্ডাকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনের ‘জ্বালানি নিরাপত্তা : বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমি একটা জাতীয় জ্বালানি বিষয়ক কমিটিতে আছি। সেই জায়গায় দেখলাম, আমলাদের মধ্যে অনেকেই যে এলএনজির সঙ্গে রিলেটেড, তিনি গভমেন্টকে পুশ করার চেষ্টা করেন—এলএনজি কীভাবে আমাদের দেশে এনার্জি সংকট নিরসনে সহায়তা করবে। কারণ, এলএনজি কোম্পানিগুলো ইম্পোর্ট করে, মানে হচ্ছে ইনভেস্ট করে। দেখা গেল অবসরের পর সেই আমলা ওই এলএনজি কোম্পানির কোনো একটা পোস্টে চাকরি করে।

তিনি আরও বলেন, আবার এইচএফও নিয়ে কাজ করে সে দেখা যায় গভমেন্টকে পুশ করে। পলিসিতে পুশ করে, আমাদের হেভি ফুয়েল অয়েলগুলা যদি আমরা বেশি বেশি ইমপোর্ট করি, সেটা কিভাবে আমাদের এনার্জি ক্রাইসিসকে সলভ করবে। আমাদের দেখা যায়, ডিজেল নিয়ে কাজ করে, সে গভমেন্টকে পুশ করে। গভমেন্ট ডিজেল বিভিন্ন জায়গা থেকে কিনে, স্পট মার্কেট থেকে কিনে। সবাই তাদের স্বার্থ ঠিক রেখে সরকারকে পুশ করে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের যে জন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, রাষ্ট্রের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, সেই জায়গা থেকে গভমেন্টকে অনেক দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। এখানে আমাদের সংস্কারের ইনস্টিটিউশনাল, ইন্ডিপেন্ডেন্ট হওয়ার কথা ছিল। আমাদের জুডিশিয়ারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট হওয়ার কথা ছিল। আমাদের আমলাতন্ত্রের জায়গায় একটা ম্যাসিভ রি-স্ট্রাকচার হওয়ার দরকার ছিল। পুলিশ সংসার কমিশন হওয়ার দরকার ছিল। এই সব জায়গা থেকে গভমেন্ট অনেক দূরে সরে গিয়েছে। কারণ গভমেন্টের কাছে মনে হচ্ছে, সে যদি সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে, সবগুলোকে যদি এপ্রোপ্রিয়েট না করতে পারে, সে নাকি সরকার যথাযথভাবে চালাতে পারবে না।

তিনি বলেন, এনার্জি ইন্ডিপেন্ডেন্ট না হলে আমাদের যে প্রবলেমটা হবে, দেখা যায় আমাদের এই যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং কমার্শিয়ালে এনার্জির অনেক ক্রাইসিস আছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং কমার্শিয়াল এনার্জি ক্রাইসিসের কারণে আমাদের বাজার বড় হচ্ছে না, বিজনেস বাড়ে না। আমাদের এখানে দেখা যায় প্রচুর পরিমাণ লোডশেডিং এর কারণে আমাদের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলা প্রত্যেক বছর ক্রাইসিসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেজন্য আপনি যদি আমাদের আশেপাশের দেশগুলোতে দেখেন, ইন্ডিয়াতে দেখেন তারা এনার্জি সোর্সকে ডাইভার্সিফাই করতে পারছে। এখন রিনিউয়েবলে চলে গেছে। পাকিস্তানকে দেখেন ওরা রিনিউয়েবলে অনেক এগিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ইমপ্যাক্ট কিন্তু পাকিস্তানে পড়ে নাই। উরুগুয়েতে পড়ে নাই, কেনিয়াতে পড়ে নাই। কারণ হচ্ছে, তারা এখন রিনিউয়েবল ডিপেন্ডেন্ট। লাস্ট ১০-১৫ বছরে যদি দেখেন আমাদের নতুন কোন ধরনের ডোমেস্টিক সোর্সিংই করি নাই রিনিউয়েবলের জন্য।

হাসনাত বলেন, আমাদের একটার পর একটা পাওয়ার প্লান্ট দিয়ে গেছে। কিন্তু এগুলা থেকে আমরা সোর্স করতে পারি নাই। সেটার জন্য আমাদের পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। দিনশেষে আমাদের যেই ইম্পোর্ট ব্যাস এনার্জি সোর্সিং করার যে পদ্ধতি বা আমাদের যেই প্রক্রিয়া ডিপেন্ডেন্সি সেটা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। দিনশেষে রিনিয়েবলস আমাদের যাইতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category